দক্ষিণের খবর | www.dokkhinerarthonity.com
চায়ের কুঠির
NEWS
প্রকাশ: সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম
আপডেট: সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম
নিজস্ব প্রতিবেদক, দক্ষিণের খবর:
টিকটকসহ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে শিবচরের ভান্ডারীকান্দি এলাকার চায়ের দোকান এখন মানুষের মুখে মুখে। বিকেল হলেই লোকজন ছুটে যাচ্ছেন ভান্ডারীকান্দির দক্ষিণ ক্রোকচরের বাওর ব্রিজ। তরুণীদের ভিড়ও কম নয়। যতটা না চায়ের স্বাদ নেয়া তারচেয়েও বেশি আগ্রহী ছবি তোলা, ভিডিও বানানো। বিশেষ করে ফেসবুক, টিকটকের জন্য রিলস তৈরিতেই বেশি ব্যস্ত থাকে এরা। এসব নিয়ে অনেকেরই ধারণা ভাইরাল চায়ের দোকান আসলে কতদিন টিকবে? ভাইরাল হয়ে গত এক মাসে প্রায় লাখ টাকা বিক্রি হওয়া চায়ের কুঠির এর উদ্যোক্তারা জানান তাদের পরিকল্পনার কথাও। বর্ষা শেষে শীত মৌসুমে চায়ের কুঠিরের আশেপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে নিজেরা যোগ করবেন ভিন্ন কিছু। বিস্তৃর্ণ ফসলের ক্ষেতে সূর্যমুখীর চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। চা প্রেমীরা তখন সূর্যমুখীর সৌন্দর্যের টানেও এখানে আসবে। রয়েছে আরও নানা পরিকল্পনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই পাশে জলরাশি, শাপলাসহ নানা রকম জলজ উদ্ভিদ। মাঝে মধ্যে অতিথি পাখি ঝাঁক ধরে নামে পানিতে। মূল গ্রাম থেকে বেশ পল্লীতে দক্ষিণ ক্রোকচর এলাকার বাওর ব্রীজ। মূলত গ্রামীন একটি পাকা সড়ক দুই গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। সড়কের দুই পাশেই বিস্তৃর্ণ ফসলের ক্ষেত। যা বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যায়। শীতকালে শুকিয়ে গেলে বরিশস্যসহ নানা ফসল চাষ করা হয় এখানে। বর্ষায় চারপাশে পানি থাকায় প্রকৃতি বেশ মনোরম হয়ে উঠে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় তরুণদের চায়ের দোকান সাড়া ফেলেছে এলাকায়। দূর দূরান্ত থেকে নানা বয়সীরা চা খেতে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বিকেল হতেই লোক সমাগম বাড়তে থাকে। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুদের নিয়ে তরুণ-তরুণীরা এসে ভিড় করছেন এখানে। চায়ের দোকানে সৃষ্টি হচ্ছে লম্বা লাইন। চায়ের পাশাপাশি চটপটি-ফুচকার দোকানও রয়েছে। রয়েছে দোলনাও।

জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ ক্রোকচর বাওর ব্রীজে প্রতিদিন বিকেলে আশেপাশের যুবক-তরুণেরা আড্ডা দিতেন। বিকেল হলেই স্থানীয় সালাহউদ্দিন, দীন ইসলাম, রাহাত, শাকিল বাওর ব্রীজের উপর বসে সময় কাটাতেন। দুই পাশেই বিশাল প্রাকৃতিক জলাশয়। বর্ষায় পানিতে টইটুম্বর থাকে আর শীতে শুকিয়ে যায়। বর্ষা এবং শীত উভয় ঋতুতেই গ্রামীণ আবহে ঢাকা থাকে এই এলাকা। ইউটিউবে নির্জন গ্রামে চায়ের দোকান দেখে নিজেরাই দোকান তৈরির উদ্বোগ নেন। 'চায়ের কুঠির' নামে নিজেরাই তৈরি করতে শুরু করেন দোকানঘর। পাশাপাশি ছোট্ট দুটি দোকান তৈরি করেন। দোকান তৈরির ছবি, ভিডিও প্রচার করতে থাকেন সামাজিক মাধ্যমে। সেপ্টেম্বর মাসের ৬ তারিখে উদ্বোধন করে চায়ের দোকান। রং চা, দুধ চা, মালাই চা আর পোড়া পাউরুটি। উদ্বোধনের দিন থেকেই চায়ের দোকান ঘিরে মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকে। এখন প্রতিদিন বিকেল হলেই মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় প্রত্যন্ত পল্লীর বাওর ব্রীজ এলাকা।
জানতে চাইলে উদ্যোক্তা দীন ইসলাম বলেন,'আমরা এখানে আড্ডা দিতাম। আমরা সবাই পড়াশোনা করি। বিকেল হলেই বাড়ির পাশের ব্রিজে আড্ডা দেই। এক সময় মনে হয় এখানে একটা চায়ের দোকান দেয়া যেতে পারে। ইউটিউবে এরকম স্থানে চায়ের দোকানের একটি ভিডিও দেখি। অন্য বন্ধুদের সাথে আলাপ করে কাজে নেমে পড়ি। নিজেরাই দোকান তৈরি করি। ৫০ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করি। দোকানের বয়স মাত্র ১ মাস। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রচুর বিক্রি হয়। মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকার চা বিক্রি করছি।'
উদ্যোক্তাদের আরেকজন মো.সালাহউদ্দিন হাওলাদার বলেন,'আমরা চিন্তা করতে পারিনি আমাদের এতো বিক্রি হবে। প্রতিদিন ১০/১৫ হাজার টাকার চা-রুটি বিক্রি করি। ৩০/৩৫ কেজি দুধের চা বিক্রি হয়। এখানে ৫ টি দোকান রয়েছে এখন। আমরা দুটি দোকান দিয়ে শুরু করি।'

শরিয়তপুর থেকে আসা মো. সবুজ বলেন,'আমি একজন সৌদি প্রবাসী। টিকটকের মাধ্যমে এই চায়ের দোকানের খোঁজ পাই। বাড়িতে আসার পর এখানে আসলাম। আসলে চায়ের স্বাদ খুবই ভালো। সবচেয়ে ভালো লাগে প্রাকৃতিক পরিবেশ। সব মিলিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের মধ্যে এই প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানো এবং চা পান বেশ ভালো লাগছে।'
সোনিয়া আক্তার নামে এক তরুনী বলেন,'চায়ের দোকানটি এখন ভাইরাল হয়ে গেছে। চা খেতে এসে অনেকেই ভিডিও করছে, ছবি তুলছে। এদের মালাই চা আর পোড়া রুটির স্বাদ ঠোটে লেগে থাকে।'
আরেক তরুনী ইশরাত জাহান বলেন,'আধা ঘন্টা ধরে চায়ের জন্য অপেক্ষা করছি। প্রচুর ভিড়। লম্বা সিরিয়াল থাকে দোকানে।'
উদ্যোক্তা দীন ইসলাম আরও বলেন,'আমরা সবাই এখনও লেখাপড়ি করছি। বিকেলে অবসর সময়ে আমরা চায়ের দোকান করি। বেকার থাকার চেয়ে ভালো আইডিয়া নিয়ে শুরু করলে সফল হওয়া সম্ভব। আশেপাশের পানি শুকিয়ে গেলে এখানকার জমিতে সূর্যমুখী চাষ করবো। জমি লীজ নিয়েছি। আমাদের গ্রামের নাম এখন মানুষের মুখে মুখে। সারা বছরই যাতে দর্শনার্থীরা এখানে আসেন সেই পরিকল্পনা রয়েছে।'
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মো. সরোয়ার হোসেন মিঠু
নির্বাহী সম্পাদক: ইমতিয়াজ আহমেদ
বার্তা সম্পাদক: নাজমুল হোসেন লাভলু
ডিজিটাল ইনচার্জ: মো.সোবাহান মিয়া
Email: dokkhinerkhobor@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1717607442
Address: Shibchar Powro Super Market, 2nd Flor, Shop No.44, Shibchar Sadar, Madaripur.
স্বত্ব দক্ষিণের খবর
Developed by Vida Team